জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ মিটার না থাকা এবং কোনো সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও এক গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিবরণ:

উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাড়িতে পূর্বে পাঁচটি আবাসিক মিটার ছিল। তিনি একটি মিটার পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী মন্দিরের জন্য বাণিজ্যিক মিটারের আবেদন করেন, যা তার আগের আবাসিক মিটারের স্থানেই দেওয়া হয়েছিল।

তবে গত জুলাই মাসে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে মিটারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা মিটারটি খুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে সেই স্থানে কোনো মিটার বা সংযোগ ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি গ্রাহকের হাতে ওই মিটারের বিপরীতে আগস্ট মাসের ৬৯২ টাকা পরিশোধের একটি বিলের কাগজ পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাছ পড়ে মিটার নষ্ট হওয়ার পর বিদ্যুতের লোকেরাই তা খুলে নিয়ে যায়। এরপর মিটার বা সংযোগ কিছুই ছিল না, আমি বিদ্যুৎ ব্যবহারই করিনি। তাহলে বিল কীভাবে এলো?”

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য:

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি দুর্ঘটনাবশত ভুল হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, মিটার বা সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিল ইস্যু হলো তা তদন্ত করতে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্তে কর্তৃপক্ষের কারো গাফিলতি বা কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

Leave a Reply